আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যার কারণ খতিয়ে দেখা হবে, অপরিকল্পিত উন্নয়নের অভিযোগ রিজভীর

মো. সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বন্যার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অতীতের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে না।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তারা এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তারা আনোয়ারায় এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।তিনি আরও বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই এ ধরনের দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যাপ্রবণ এলাকায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বন্যাকবলিত কোনো মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার ও দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামে যে নজিরবিহীন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেট, কালভার্ট ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বাঁধ অপসারণ, ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও নদী পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উমা খান কাফি, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সারোয়ার, যুবদল নেতা গাজী মোহাম্মদ ফোরকান, জিয়াউদ্দিন জিয়া, ছাত্রদল নেতা ইসমাইল বিন মনিরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর